সোশ্যাল মিডিয়া

আনিসুল হক সাহেবের মত মানুষ কি একজনও নেই!

মোঃ শহীদুল হক শহীদ

কাল থেকে সীমিত আকারে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসগুলো খোলা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনও চলাচল করতে পারবে। কেন জানি মনে হচ্ছে খুব বেশি তাড়াহুড়ো হয়ে গেল! অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন এখনি করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ হওয়ার সময়! সামনের একটি মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের দেশের জন্য। সীমিত আকারে গার্মেন্টস, মার্কেট বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার পেছনে যে শক্ত যুক্তি ছিল, এবারে সকল অফিস একযোগে খুলে দেয়ার পেছনের যুক্তিটা ঠিক আমার কাছে বোধগাম্য নয়। দেশের এই দুর্যোগে অর্থনীতির চাকা পুরোপুরি সচল রাখা সম্ভব? উত্তর সম্ভবত ‘না’। যদি সীমিত আকারেই সচল রাখার উদ্দ্যেশ্য হয় তাহলে সব অফিস এক সাথে খুলে দিতে হবে কেন? আর সব অফিস কি সমান গুরুত্বপূর্ণ, যে একযোগে খুলতেই হবে? এরকম অনেক অফিস আছে যেগুলো আরো ২ মাস বন্ধ রাখলেও জনসেবা অচল হবে না।

বলা হয়েছে শর্ত মেনে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে চলবে গণপরিবহন! এমনটা হলেতো ভালো! তবে যে দেশে যাত্রী আগে তোলার প্রতিযোগীতায় অনায়াসেই একজনকে পিষে ফেলা হয়! পক্ষান্তরে যেখানে অধিকাংশ যাত্রীই “যেকোন মূল্যে এই বাসে উঠতেই হবে” মর্মে মরিয়া! সেখানে সীমিত, শর্ত, স্বাস্থ্যবিধি এই শব্দগুলো কেমন যেন বেমানান বা হাস্যকর মনে হয়! অথচ এখনই সুযোগ তৈরী হয়েছিল প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ড্রিম প্রোজেক্ট “ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস সার্ভিস” চালুর। একটি রুটে একই নামে বাসগুলো চলবে, টিকিট কেটে যাত্রী উঠবে, বাস ড্রাইভার-হেল্পাররা বেতনের আওতায় আসবে, সব মালিক সমানভাবে আয় বুঝে নিবে। শুনেছি পরিবহন নিয়ে মন্ত্রণালয় আছে, সংস্থা আছে, আরো কতশত মাথা! আনিসুল হক সাহেবের মত মানুষ কি একজনও নেই এখানে!

সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য, তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরো একটু হিসেবী হওয়া উচিত বলে মনে করি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন এই সিদ্ধান্ত বুমেরাং না হয়। আল্লাহ সহায় হোন।

লেখকঃ সহকারী অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close