গল্প

পতিতা পল্লীঃ পর্ব-১১

তারপর অরণ্য কলটা ধরে ডালিয়ার হাতে ফোনটা ধরিয়ে বলল আর ডালিয়াকে বলল।তুমি কথা বল। ডালিয়া ফোনটা হাতে নিয়ে বুঝতে পারল না কি বলবে।কিছুটা ভয় ও পেতে লাগল।ফোনটা কানে নিয়ে আবার নীচে নামিয়ে ফেলল।অরণ্যকে বলল

—আমি কি বলব?আপনিই কথা বলেন।আমি কিছু বলতে পারব না।আমার ভয় লাগছে।আর ওনি কত বড় মানুষ ওনার সাথে কতা বলে আমি পারব না।

—আরে তোমার যা ইচ্ছা বলে দাও।এমন কিছু বলবা যাতে মাবিহা আর কল না দিতে পারে।ভয় পাবার কিছু নেই কথা বলতো।আমি আছি তো।কিছু হলে আমি দেখব।

ডালিয়া অরণ্যের কথা শোনে আবার কানে ফোনটা ধরল।খেয়াল করল মাবিহা হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছে।ডালিয়া কিছুটা ভয়ে ভয়ে বলল

—হ্যালো কে বলছেন?

—কে বলছি মানে তুমি কে?

—আমি কে মানে কি?আপনি কল দিয়েছেন, কাকে কল দিয়েছেন জানেন না?আবার আমাকে জিজ্ঞেস করছেন আমি কে?

—এটা তো অরণ্যের মোবাইল তুমি কে?তুমি অরণ্যের মোবাইল নিয়ে কি করছ।

—সেটার জবাব তো আমি আপনাকে দিতে বাধ্য না।

—অরণ্যকে দাও

—অরু ব্যাস্ত।এখন কথা বলা যাবে না।আর অরু চায় ও না আপনি ওকে ফোন দিন।সুতরাং শুধু শুধু ওকে ফোন দিয়া বিরক্ত করবেন।

—তোমার সাহস কি করে হয় অরণ্যের ফোন ধরে এ টাইপ কথা বলতে।তুমি কি ঐ মেয়েটা যে অরণ্যের মাথা খেয়েছ।

—আমি কে সেটার পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন অণুভব করছি না।আপনার সাহস কি করে এত রাতে একজন পরপুরুষকে কল দেওয়ার।

—অরণ্য পরপুরুষ না।অরণ্য আমার স্বামী আর আমি ওর স্ত্রী।

—হাহাহা।আপনি বেশ হাসালেন।স্ত্রী এর আগে প্রাক্তন কথাটা লাগালে ঠিক ছিল।কারন বর্তমানে তো আপনি অরুর স্ত্রী না।আপনাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে অনেক আগেই।এখন কোন যুক্তিতে আপনি নিজেকে অরুর স্ত্রী বলে দাবি করছেন।আর আপনার বিয়ে তো আকাশের সাথে হয়েছে পরিচয় দিলে আকাশের পরিচয় দিন, কল দিলে আকাশকে দিন।অরু কে কেন ডিস্টার্ব করছেন?

—দেখ মেয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করছ।অরণ্যকে দাও বলছি।অরণ্যের সাথে আমার কথা আছে।

—বললাম তো দেওয়া যাবে না।আর দিব কেন?যাকে আপনি কাঁচ ভেবে ছুরে ফেলেছিলেন সে যে একটা হীরার টুকরা ছিল সেটা চিনতে পারেন নি।আর আমি সেই হীরার টুকরাটাকে যত্ন করে রেখে দিয়েছি।আর এখন আপনি এসে দাবি করছেন এটা আপনার।আজিব মানুষ তো।এতবার করে বলছি ও ব্যাস্ত দেওয়া যাবে না তবুও বারবার চাচ্ছেন।মিনিমাম লজ্জাটুকুও কি নেই আপনার।

—এই যে মেয়ে তুমি অরণ্যের কি হও যে এভাবে কথা বলছ।এত বড় সাহস তোমাকে কে দিয়েছে?

—আমি অরণ্যের স্ত্রী হই।আপনি কেন আমাদের মধ্যে জামেলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন বুঝছি না।আর এত বড় সাহস আমাকে আমার অরু দিয়েছে।বারবার কেন কল দিয়ে বিরক্ত করছেন।এত রাতে কেউ কল দেয়।জানেনেই তো এটা স্বামী স্ত্রী এর প্রাইভেট সময়।এ সময় কল দিয়ে কেন বিরক্ত করছেন।রোমান্টিক সময়ে কল দিবেন না তো।অরু ফোনটা বন্ধ করে দিতে চাইছিল।কিন্তু আমি ফোনটা ধরছি আপনাকে বুঝানোর জন্য।যেহুত অরণ্য বিবাহিত ওকে আর ডিস্টার্ব করবেন না।প্লিজ আমাদের মধ্যে জামেলা সৃষ্টি করবেন না।আমরা অনেক ভালো আছি।আমাদের ভালো থাকতে দিন।আপনি আপনার আকাশকে নিয়ে ভালো থাকেন।অন্যের সংসার ভাঙ্গতে আসবে না।আমাদের সুখের পথে কাটা হয়ে দাঁড়াবেন না।

একের পর এক কথা ডালিয়া বলেই চলছিল আর এদিকে অরণ্য বেশ মজা নিচ্ছিল।আর ডালিয়ার মুখে এমন কথা শোনে অরণ্যের ও বেশ ভালো লাগছে।দুজনের ঝগড়া দেখে অরণ্য বেশ মজা নিচ্ছিল।ডালিয়ার কথা শোনে তো অরণ্য হেসে লুটুপুটু খাচ্ছিল।কারন মাবিহা কোনভাবেই ডালিয়ার কথার সাথে পেরে উঠছিল না।অবশেষে ডালিয়ার কথার সাথে মাবিহা পেড়ে উঠতে না পেরে মাবিহা বলল

—আমি তোমাকে দেখে নিব মেয়ে।

—সে আপনি যা করার করেন।এখন ফোনটা কেটে আমাদের রোমান্স করার সুযোগ করে দিন।

মাবিহা রেগে মেগে ফোন কেটে দিল।আর ডালিয়ায় ফোন রাখার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল আর বলল

–আমি যে ওনাকে আপনার বউ বলে পরিচয় দিয়েছি আপনি রাগ করেন নি তো।

—আরে আমি অনেক খুশি হয়েছি।আমি তো চাচ্ছিলামেই তুমি এমন বল।তুমি তো পুরা ফাটিয়ে দিয়েছ ডালু।

ডালিয়া এবার লজ্জা পেয়ে মাথা নীচু করে বলল।আমি যাই তাহলে আপনি ঘুমান।এ বলে যেতে নিল।অরণ্য ডালিয়ার শাড়ির আঁচলটায় ধরে টেনে বুকের কাছে এনে বলল

—একটু আমার কাছে থেকে যাও।

—কেন কি করবেন?

—কিছুই করব না।সারা রাত তোমাকে দেখব।তোমার কপালে একটা চুমু একে দিব।জানালা দিয়ে জোস্না রাতের চাঁদটা উপভোগ করব।এখন একটা বকুল ফুলের মালা থাকলে ভালো হত।

—বকুল ফুলের মালা দিয়ে কি করবেন?

—বকুল ফুলের মালাটা নিয়ে তোমার গলায় পড়িয়ে তোমার গলা থেকে বকুল ফুলের ঘ্রাণ টা উপভোগ করতাম।

—তারপর কি করতেন।

—তারপর তোমাকে এভাবে জড়িয়ে ধরে রাখতাম।

এবার ডালিয়া বেশ লজ্জা পেল।লজ্জায় যেন লাল হয়ে গেল।ডালিয়ার লজ্জা পেতে দেখে অরণ্য ও বেশ উপভোগ করল আর বলল

—যাও এবার নিজের ঘরে গিয়ে ঘুমাও।কালকে আমার নতুন জয়েন।সকাল সকাল উঠতে হবে।

—আচ্ছা যাচ্ছি।কিন্তু সকালে কি খেয়ে যাবেন বলুন।

—তুমি তোমার ইচ্ছা মত কিছু রান্না কর।

আচ্ছা…. এই বলে ডালিয়া ডালিয়ার রুমে চলে গেল।ডালিয়া রুমে এসে অরণ্যের কথা ভাবতে।কত মায়া ভরা অরণ্যের বুকটা।সব কিছু যেন ডালিয়ার স্বপ্ন মনে হচ্ছিল।এসব ভাবতে ভাবতে ডালিয়া ঘুমিয়ে গেল।পরদিন খুব সকালে ডালিয়া ঘুম থেকে উঠল।উঠে রান্না শুরু করে দিল।রহমত চাচা এসে বলল

—আরে মা তোকে কষ্ট করতে হবে না।আমিই করে দিচ্ছি।বল কি করতে হবে।

—চাচা তুমি যাও তো।এতদিন অনেক করেছ।এবার আমাকে করতে দাও।চুপ করে গিয়ে বসে থাক।আরেকবার কাজ করতে চাইলে কিন্তু ভালো হবে না।

—পাগলি একটা।এমন ভাবে শাসন করছে যেন আমার মা হয়।

“মা” কথাটা শোনে ডালিয়ার চোখের জল ছলছল করতে লাগল।এভাবে তার বাবাও কোনদিন আপন করে কথা বলে নি।আর রহমত চাচা কত আপন করেই না কথা বলছে।রহমত চাচা ডালিয়ার চোখে জল দেখে বলল

—কি রে মা কাঁদছিস কেন।তোকে কি আমি কষ্ট দিয়েছি।মা বলেছি বলে রাগ করেছিস।

—রহমত চাচা এ চোখের পানি যে সুখের।তুমি যে ভালোবেসে মা ডেকেছ কতটা খুশি হয়েছি বলে বুঝাতে পারব না।আজ থেকে তুমি আমার চাচা না ববা।আমিও তোমাকে বাবা বলে ডাকব।তোমার মত করে আমার বাবাও আমাকে ভালোবাসে নি।

রহমত চাচা এক রাশ হাসি দিয়ে বলল।

—আমার লক্ষী মা তুই।তোর যা মন চায় ডাকিস।তোর মত লক্ষী ময়ের বাবা হতে পেরে যে আমি খুব খুশি।রান্না কি শেষ করেছিস নাকি আরও বাকি?

—-শেষ চাচা।এবার শুধু টেবিলে দেওয়ার পালা।

হঠাৎ ডালিয়া শোনতে পেল অরণ্য তাকে ডাকছে।

—ডালু ডালু কোথায় তুমি?

—আসতেছি।কিন্তু কেন?

—আমার মানিব্যাগ আর ঘড়িটা কোথায়?

—ড্রসিং টেবিলের উপরে দেখুন।

—পাচ্ছি না তো তুমি এসে দিয়ে যাও

ডালিয়া দৌঁড়ে উপরে গেল।উপরে গিয়ে দেখল মানিব্যাগ আর ঘড়ি ড্রসিং টেবিলের সামনেই আছে।কিছুটা অভিমানী রাগী চোখ নিয়া মানিব্যাগ আর ঘড়িটা দিয়ে বলল

—এখানেই তো আছে।তাহলে না করলেন যে?

—হুম জানি আছে।কিন্তু আমি চাই ঘড়িটা তুমি পড়িয়ে দাও।তাই আসতে বলেছি।এখন তাড়াতাড়ি ঘড়ি পড়িয়ে দাও তো।

—আপনি যে মাঝে মাঝে কি করেন বুঝি না।বাচ্চাদের মত আচরণ করেন একদম।

—তুমি জানো আমি কত সিনিয়র তোমার।আবার তুমি আমাকে বাচ্চা বল। ১৬ বছরের একটা পুচকি মেয়ে আমাকে বাচ্চা বলে।সাহস কত।হাহাহা।

—সে আপনি যায় বলেন মাঝে মাঝে আপনাকে আমার বাচ্চায় মনে হয়।

—হয়েছে হয়েছে।তোমার সাথে কথা বলে আমি পারব না।এবার পাকা পাকা কথা রেখে আমাকে ঘড়িটা পড়িয়ে দাও তাড়াতাড়ি।এত বকবক করতে পারে।

—-কি আমি বকবক করি।আর কথায় বলব না।

অরণ্য ডালিয়াকে টেনে বুকের কাছে এনে বলল

—তুমি কথা না বললে যে আমিই মরেই যাব।

ডালিয়া অরণ্যের মুখটা চেপে ধরে বলল

—মরার কথা বললে কিন্তু আমি সত্যিই কথা বলব না।আপনি মরে যাবেন আমার আগে এটা আমি ভাবতেও পারি না।এ কথা আর বলবেন না।

কথাটা বলে ডালিয়া একদম কেঁদে দিল।অরণ্য ডালিয়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল

—পাগলি মেয়ে এভাবে কাঁদে না।মরতে তো হবেই সবাইকে।আচ্ছা সরি আমি আর একথা বলব না।

ডালিয়া অরণ্যে দিকে এবার অভিমানী চোখ নিয়া তাকিয়ে বলল

—কান ধরেন তাহলে।কান ধরে সরি বলেন।

—সত্যিই কি কান ধরতে হবে।আজকে মাফ করে দেওয়া যায় না।

—কোন মাফ নেই, কান ধরেন।

অতঃপর অরণ্য কান ধরে মুচকি হাসি দিয়া বলল

—আমি আর এমন কথা বলব না।আমি আমার ডালুকে আর কষ্ট দিব না।আমার ডালুকে সবসময় খুশি রাখার চেষ্টা করব।এবার ডালু রানী আমার ঘড়িটা পরিয়ে দিন।না হয় অফিস যেতে লেট হবে যে।

ডালিয়া মুখের কোনে একরাশ হাসি নিয়ে অরণ্যকে ঘড়িটা পড়িয়ে দিয়ে বলল।

—এবার নাস্তা খেতে নীচে চলুন।

ডালিয়া ও নীচে গেল।রান্না ঘর থেকে খাবার নিয়ে এসে টেবিলে দিতে লাগল।হুট করে রান্না ঘর থেকে আাসার সময় ডালিয়া পা পিছলে পড়ে গেল।অরণ্য খেয়াল করল ডালিয়া পড়ে আছে।তাড়াতাড়ি ডালিয়ার কাছে গেল।ডালিয়াকে রগী কন্ঠে বলল

—এত তারাহুরার কি আছে।কাজ করবা আস্তে ধীরে ।এখন যদি কিছু হত।উঠ আমার কাঁধে ভর করে।

ডালিয়া অরণ্যের জারি শোনে একটু মন খারাপ করল।অরণ্যের কাঁধে ভর করে উঠে চুপ করে দাড়িঁয়ে রইল
অরণ্যও বুঝতে পেরেছে ডালিয়া অভিমান করেছ।তাই ডালিয়াকে বলল

—হয়েছে হয়েছে আর এভাবে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না।তুমি যদি পরে ব্যাথা পেতে তাহলে কে ভুগত আমি নাকি তুমি।এখানে বস।আজকে একসাথে খাব।

—আপনি খান আমি পড়ে খেয়ে নিব।

—একটা মাইর দিব।তাড়াতাড়ি বস।

অরণ্য ডালিয়াকে টেনে চেয়ারে বসিয়ে খাইয়ে দিল।ডালিয়া যেন স্বপ্নের সাগরে ভাসতে লাগল।ভাবতে লাগল এত সুখ তার কপালে সইবে তো।নাকি আাবার সব সুখ ফিকে হয়ে যাবে।খাওয়া শেষে ডালিয়া অরণ্যকে জিজ্ঞেস করল

—আপনি কখন আসবেন?

—আজকে তাড়াতাড়ি চলে আসব।তুমি রেডি থেক।বিকেলে ঘুরতে যাব।কোথায় যাবে বলতো

ডালিয়া অনেক ভেবে উত্তর দিল

—শিশু পার্কে যাব।

অরণ্য ডালিয়ার কথা শোনে হাসতে হাসতে উত্তর দিল

— এত জায়গা থাকতে শিশু পার্কে কেন?

—আমার খুব ইচ্ছা ছিল শিশু পার্কে যাবার।কিন্তু বাবা ব্যাস্ত থাকায় কখনও যেতে পারে নি।আর এরপর মা মরে যাওয়ার পর তো জীবনেই পাল্টে গেল।শিশু পার্কে যাব কিভাবে।এজন্য বললাম।না নিয়ে যেতে পারলে থাক।

—হয়েছে মুখ ভার করে রাখতে হবে না।আমি এসেই নিয়ে যাব।রেডি হয়ে থেকে।

ডালিয়া তো শোনে খুশির চুটে অরণ্যকে জরিয়ে ধরল।তারপর আাবার নাচতে নাচতে রুমে চলে গেল।অরণ্য ডালিয়ার খুশি দেখে ভাবতে লাগল মেয়েটা কত বাচ্চাসুলভ।আচরণ গুলা একদম বাচ্চাদের মত।আর হবেই বা না কেন বয়স ও তো একদম কম।১৬ বছরের মেয়ে আর কত বড়।পরিস্থিতি তাকে এ হাল করেছে।না হয় ডালু তো একটা বাচ্চায়।একটু ভালোবাসা পেয়েই কতটা খুশি।ডালিয়াকে একটু ভালো রাখতে পেরে অরণ্যের মনে যেন একটা শান্তি লাগছে।

এরপর অরণ্য অফিসে গেল।পুরোনো অফিসটা যেন নতুন করে পেল।সেই চেনা হাসপাতাল চেনা ঘর।অনেকটা বদলে গেছে।বদলে গেলেও যেন অরণ্যের কাছে চিরচেনা মনে হচ্ছে।অফিসটা আজ নতুন করে পেয়ে অরণ্য বেশ খুশি হল।আর মনে মনে ডালিয়াকে অণুভব করতে লাগল।কারন এ সব কিছুই হয়েছে ডালিয়ার জন্য।ডালিয়ার জন্যই আজ অরণ্য সব হারিয়ে যাওয়া জিনিস ফিরে পেয়েছে।ডালিয়ার প্রতি ভালোলাগাটা কখন যে অরণ্যের মনে ভালোবাসায় রুপ নিয়েছে অরণ্য বুঝতেই পারে নি।

সব কাজ সেড়ে বিকেল ৩ টায় অরণ্য বাসায় ফিরে দেখল ডালিয়া একদম রেডি হয়ে বসে আছে।অরণ্যের বুঝতে বাকি রইল না ডালিয়া শিশু পার্কে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে আছে। ডালিয়া অরণ্যকে দেখার পর বলল

—আপনি এসেছেন।আমি তো সেই কখন থেকে রেডি হয়ে বসে আছি।আপনার নাম্বার ও নাই যে কল দিব।রহমত চাচাও নাম্বার জানে না।

—ওরে আমার ডালুটাকে মনে হয় খুব বেশি অপেক্ষা করিয়ে ফেলেছি।মোবাইলটা দাও দেখি।

ডালিয়া তার ছোট্র ভাঙ্গা মোবাইলটা অরণ্যের কাছে বাড়িয়ে দিল।অরণ্য সেই মোবাইলে অরণ্যের নাম্বারটা অরু লিখে সেভ করে দিল আর বলল

—এই যে নাম্বার সেভ করে দিচ্ছি।এখন খোঁজ নিতে আর সমস্যা হবে না।আর চলেন।তাড়াতাড়ি শিশুপার্কে যায়।

—-কিন্তু কি দিয়ে যাবেন।চলেন রিকশা করে যাই।

—একটু দূরে এখান থেকে রিকশা দিয়ে যাওয়া যাবে না।আমরা গাড়ি দিয়ে যাব তারপর আসায় সময় অর্ধেক রাস্তা গাড়ি দিয়ে আসব আর বাকি অর্ধেক রাস্তা রিকশা দিয়ে ওকে।

—আচ্ছা।

অতঃপর দুজন মিলে শিশু পার্কে গেল।অরণ্য খেয়াল করল ডালিয়া শিশু পার্কে গিয়ে বেশ খুশি।বাচ্চাদের মত ঘোড়ায় চড়ছে,বিমানে চড়ছে।কত কি নাই করছে।সত্যিই তো মেয়েটা তো বাচ্চায়।আর অরণ্যকে ডেকে ডেকে বলছে

—আমি একটু ফুলদানিতে উঠব।আমি একটু রেল গাড়িতে উঠব।আপনিও আমার সাথে উঠুন।

অরণ্যও ডালিয়ার সাথে ঐখানে থেকে নিজেকে বেশ বাচ্চায় মনে হতে লাগল।কারন ডালিয়ার বাচ্চাসুলভ আচরণ গুলো যেন অরণ্যের বেশ ভালোই লাগছে।

ঐখানে ঘুরা শেষে এবার বাসায় আসার পালা।অর্ধেক রাস্তা গাড়িতে এসে ডালিয়া আর অরণ্য নেমে গেল।ডালিয়া হুট করে বলে উঠল।

—হলুদ বাতি জ্বলে উঠেছে কি মজা।

অরণ্য বেশ হাসতে লাগল ডালিয়ার কথা শোনে।আর বলল

—হুম হলুদ বাতি জ্বলে উঠেছে।চল একটু হেঁটে সামনে যেতে হবে।তারপর রিকশা নিতে হবে।

অরণ্য আর ডালিয়া খানিকটা পথ হেঁটে সামনে গেল।সামনে গিয়ে ডালিয়া যা দেখল নিজের চোখ কেও বিশ্বাস করতে পারছিল না।কারন ডালিয়া দেখল……

( বুঝতে পেরেছি গল্পটা সবার ভালো লেগেছে। কিন্তু পরবর্তী পর্ব পাবার জন্য ধৈর্য হারাবেন না। কারন আমার ও সময় মেইনটেইন করে লিখতে হয়। আর আমি তো রেগুলার দু/ একটা পর্ব দেই। তাই পর্বের জন্য অস্থির হবেন না। গল্পটি আর কত পর্ব হলে আপনাদের ভাল লাগবে? জানাবেন কমেন্ট বক্সে…)

চলবে……
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত

লেখকঃ নীরব চৌধুরী

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও পড়ুন
Close
Back to top button
Close
Close